কক্সবাজারের রামুর গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। অভিযানে অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার সকালে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অলক বিশ্বাস জানান, রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ি এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের কতিপয় লোকজন অবৈধ কারখানা স্থাপন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর পায় পুলিশ। পরে সোমবার সকালে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ গহীন পাহাড়ের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় গড়ে তোলা সন্দেহজনক একটি ঝুপড়ি ঘর ঘিরে ফেলে। এর আগেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিন থেকে চারজন সন্দেহভাজন কৌশলে পালিয়ে যায়। ঝুপড়ি তল্লাশি চালিয়ে রাইফেলের দুটি গুলি, গুলির চারটি খোসা, বন্দুকের দুটি বাঁট, তিনটি ট্রিগার বক্স, ছয়টি নল, বন্দুক তৈরির দুটি জোগান, একটি হাওয়ার মেশিন, দুটি বাটাল, পাঁচটি আড়িব্লেড, একটি আড়িব্লেডের ফ্রেম, একটি করাত, একটি হাতুড়ি, একটি প্লাস, সাতটি ছোট-বড় রেথ, একটি শান দেওয়ার মেশিন এবং একটি বানান নালীসহ বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র জানান, অভিযানে পলাতকদের পাশাপাশি অস্ত্রের কারখানার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় রামু থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলে ঝোপ থেকে ১১ এয়ারগান উদ্ধার : এদিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। র্যাব জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লচনা এলাকার চা-কন্যা ভাস্কর্যের উত্তর পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাস্কর্যের পাশের ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে দুটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোট ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে এসব অস্ত্র নাশকতামূলক কর্মকা-ে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এয়ারগানগুলো জিডিমূলে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
