সোনারগাঁয়ে যানবাহনে অহরহ  ডাকাতি, আতঙ্কে যাত্রী-চালক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা সেতু এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে ছিনতাই ও ডাকাতি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা এখানে ঘটছে অহরহ। বিশেষ করে মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া থেকে পিরোজপুর ও টিপরদী থেকে মোগরাপাড়া অংশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকরা রীতিমতো আতঙ্কে থাকেন।

জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনে ডাকাতি ও ছিনতাই করছে। পিরোজপুর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন পেশাদার ছিনতাইকারী এসব কাজে জড়িত। মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলেই এ চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাছাড়া অনেক সময় তারা নিজেরাও কৌশলে যানজটের সৃষ্টি করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে। তারা ৮-১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে মুহূর্তের মধ্যে ছিনতাই করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না। এভাবে দিনের পর দিন এ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে দুর্ধর্ষ এ চক্রটি। প্রথমে তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। কেউ বাধা দিলে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ছিনতাইয়ের পর তারা দ্রুত সড়কের দুই পাশের স্থানীয় রাস্তা দিয়ে সহজেই আবাসিক এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। এসব ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার শিকার বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই থানায় মামলা ও অভিযোগ করেন না। তাছাড়া মামলা করলেও তেমন অগ্রগতি হয় না। তাই এ মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের বেশিরভাগ ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়।

গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুরের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কে কাতার প্রবাসী রিফাতুজ্জামানের গাড়িতে হামলা চালায় ডাকাতরা। এ সময় রিফাত ছুটি শেষে মাইক্রোবাসে করে ঢাকার বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি নয়াগাঁও এলাকায় যানজটে আটকা পড়লে ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত পিস্তল, রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ডাকাতরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গাড়িতে থাকা সাতজনকে আহত করে।

পরে তারা অস্ত্রের মুখে তিনটি মোবাইল ফোন, ৩০ হাজার টাকা, পাসপোর্ট, বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। রিফাত এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ করেন। পাসপোর্ট হারিয়ে তিনি এখন কাতার যেতে পারছেন না। এর আগেও একই স্থানে আরও বেশ কয়েকজন প্রবাসী এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এ ছাড়া একই দিনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১০ বিএনপি নেতাকর্মীকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় আরও একটি ডাকাত দল। এতে ওই ১০ জন আহত হন। ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো শুধু মহাসড়কেই নয়, উপজেলার মোগরাপাড়া-নবীগঞ্জ রুট, চৌরাস্তা থেকে উদ্ধবগঞ্জ যাওয়ার পথে দৌলেরবাগ এলাকা ও পৌর এলাকার চিলারবাগ এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই করে থাকে।

এ ছিনতাই ও পরিবহন ডাকাতিতে উপজেলার হাবিবপুর এলাকার সাদ্দাম ও সেন্টুর নেতৃত্বে রয়েছে একটি চক্র, পিরোজপুর ইউনিয়ন ও মোগরাপাড়ায় রয়েছে আরও দুটি চক্র। মোগরাপাড়ার চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছে রক্সি। আর পিরোজপুর ইউনিয়নের যে চক্রটি রয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছে শাওন, আবিদ, রানাসহ বেশ কয়েকজন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পাঁচটি টিম এ মহাসড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। পুলিশ ছিনতাইয়ের হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।’ তিনি দাবি করেন, এ কারণে ডাকাতি ও ছিনতাই আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে।’

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের টহল। ফলে তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটছে না।’ এদিকে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর  ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় চুরি ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে গতকাল বুধবার বিকেলে জৈনপুরে আলোচনা সভা হয়েছে। জৈনপুর সমাজকল্যাণ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনারগাঁ থানার ওসি মহিবুল্লাহ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়নে বর্তমানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ ইউনিয়নের অংশে সম্প্রতি পরিবহনে ডাকাতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা এসব কর্মকা- প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত