চীনে গির্জা তল্লাশি, খ্রিস্টান ধর্মনেতা রিমান্ডে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

চীনের প্রশাসন সম্প্রতি গোপনভাবে পরিচালিত খ্রিস্টান চার্চের প্রভাবশালী নেতাদের আটক করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কঠোর দমন নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।  

চেংদুতে অবস্থিত আর্লি রেইন কভেনেন্ট চার্চ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পুলিশ তাদের অফিস এবং নেতাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ৫ জনকে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে চার জন- যার মধ্যে চার্চের নেতা লি ইয়িংকিয়াং এবং তার স্ত্রী রয়েছেন -এখনও রিমান্ডে আছেন। চার্চটি বলেছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পষ্ট নয়, তবে এটি একটি সমন্বিত অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্ব চীনের ওয়েনঝু শহরে ইয়াইয়াং চার্র এর কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা চায়নাএইড এর ভিডিও অনুযায়ী, সেখানে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ছবি বা ভিডিও না তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খ্রিস্টান গ্রুপগুলো বলছে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কর্মরত চার্চগুলো দমন করতে চাওয়ার সতর্ক সংকেত দিচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। চার্চ সূত্র জানিয়েছে, অননুমোদিত চার্চ নেতাদের আটক এখন আগের চেয়ে দ্রুত করা হচ্ছে।

ওয়েনঝু শহরকে প্রায়শই চীনের জেরুজালেম বলা হয়, কারণ এখানে খ্রিস্টানদের সংখ্যা অনেক। ডিসেম্বর মাসে ইয়াইয়াং চার্র এর প্রায় ১০০ সদস্যকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে এখনও কয়েকজন আটক রয়েছে। গত বছরও চীনের অন্যান্য শহরে বড় বড় গোপন চার্চের নেতাদের আটক করা হয়েছিল।

চীনের সরকার শুধুমাত্র রাষ্ট্র অনুমোদিত চার্চ এর স্বীকৃতি দেয় এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রচার করে। বিশ্বাসীদেরকে সরকার অনুমোদিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর অধীনে ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে ধর্মোপদেশে বিধিনিষেধ এবং ধর্মকে চীনা সংস্কৃতি ও পার্টির নীতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার নির্দেশ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো চীনা সরকারকে অনুরোধ করছে, আটক চার্চ সদস্যদের মুক্তি দিতে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে, কারণ স্বাধীন চার্চের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত