ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সে বৈঠকে ট্রাম্প তেল কোম্পানির নির্বাহীদের ভেনেজুয়েলায় দ্রুত ফিরে গিয়ে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউজ বলছে, তারা চাইছে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দেশটির তেলশিল্পকে আবার সচল করতে। পাশাপাশি তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ এবং দেশটিতে ফিরে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে না ভোগার জন্য আশ্বস্তও করেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের এক সপ্তাহ পেরোতেই তেল ব্যবসায়ীদের এমন আহ্বান জানালেন ট্রাম্প।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আপনারা সেখানে (ভেনেজুয়েলা) সম্পূর্ণ নিরাপদ। আপনারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন, কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়; আমরা চাই না যে আপনারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কাজ করুন। তিনি আরও বলেন, আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো নিজেদের অর্থ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে; সরকারের অর্থ নয়। তাদের সরকারি অর্থের দরকার নেই। তবে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সুরক্ষা দরকার। এর আগে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে। এ নিয়ে গত এক মাসে এ ধরনের পাঁচটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। এমন পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, পরিশোধন ও উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, তারা শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ ১৭টি তেল কোম্পানির নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস একসময় ভেনেজুয়েলায় প্রকল্প পরিচালনা করত। ২০০৭ সালে ভেনেজুয়েলার তখনকার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের সময় বেসরকারি প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করার পর দেশটিতে এ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু শেভরন এখনো ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী তাদের নিহত ২৩ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশকে ‘ঠা-া মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে। আর কিউবা জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার অন্তত ৩২ সদস্য নিহত হয়েছেন।
