সুন্দরগঞ্জে খাল দখলে হুমকিতে ফসলি জমি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

‎গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ঘাঘট নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রকাশ্যেই খাল ভরাট করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া অভিযোগ স্থানীয়দের।

‎‎উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ (স্লুইসগেট) এলাকার গাহমারি শহর নামক স্থানে ঘাঘট নদীর শাখা খালটি ইটের গুড়ো ও মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় হাজার একর ফসলি জমি। খালটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বিল ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

‎সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বামনডাঙ্গা বন্দর থেকে ৫০০ মিটার দুরে স্লুইসগেটের মুখেই একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটির পশ্চিম পার্শ্বের দীর্ঘ ২০০ মিটার ফাঁকা জায়গায় ইটের গুড়ো দিয়ে আবারও খাল ভরাট করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মোজাম্মেল হক তোতা। পাকা সড়ক ঘেঁষে প্রায় ৪০ মিটার প্রস্থ জায়গা ইতোমধ্যে ভরাট করেছেন। এতে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। খালটি দিয়ে মূলত সাতগীরি, মনমথ ও পাইটকাপাড়া গ্রামের অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করে বামনডাঙ্গা বিল হয়ে লেঙ্গা খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খালটির পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

‎‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মোজাম্মেল হক তোতা প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে খালের ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ভবনটির পশ্চিম পাশ ফাঁকা থাকায় সেখানেও মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। 

‎‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান, ‎“প্রভাবশালীর কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। খাল ভরাট হলে আমাদের জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। সরকারি খাল এভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। বর্ষা এলে এর ফল সবাই ভোগ করবে।”

‎‎রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান- এরআগেও তিনি খালের মুখ বন্ধ করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন সেটা বন্ধ করে দেন। আবার কার ইশারায় নতুন তিনি খাল ভরাট করছেন তা বোধগম্য নয়।

‎‎তিনি আরও বলেন- খালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে আমন ও বোরো–দুই মৌসুমেই ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক তোতা মুঠোফোনে বলেন- খালটি আমার বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি। আমি অবৈধ ভাবে কোন খাল দখল করে ভরাট করছি না। ৪০ সালের রেকর্ড আমাদের নামে, তাই সেখানে কারখানা নির্মাণ করার জন্য ভরাট করছি। আইন অনুযায়ী আপনি কোন খাল ভরাট করতে পারেন কিনা– এমন প্রশ্ন তিনি বলেন- খালের মালিক যেহেতু আমি তাই যা ইচ্ছে সেটাই করবো। এখানে আমি নিয়ম মেনেই ভবন তৈরি করবো।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, খাল দখল ও ভরাট করে ভবন নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। খাল কখনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারেনা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে তিনি কিভাবে খালের মালিক হলেন। সত্যতা পাওয়ার পর স্থাপনা উচ্ছেদসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত