অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের স্টুডেন্ট ভিসাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে উন্নীত করেছে। অসাধু পরিকল্পনা এবং প্রতারণা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ভারত, নেপাল ও ভুটানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আঞ্চলিক আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতি আরও তীক্ষ্ণ নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।
সহজীকৃত স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক (এসএসভিএফ) অনুযায়ী, লেভেল ৩-এর দেশগুলোর আবেদনকারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষাগত ইতিহাসের বিস্তারিত নথি প্রদান করতে হবে। ভিসা কর্মকর্তারা প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নথি যাচাই করতে পারেন, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে তুলনামূলকভাবে ধীরগতির করে তুলবে।
প্রাক্তন অভিবাসন কর্মকর্তা ড. আবুল রিজভি বলেন, গত ডিসেম্বরে ভারতের এক বিশাল নকল ডিগ্রি কেলেঙ্কারির রিপোর্টের পর সম্ভবত এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মের মূল নজরদারি থাকবে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষাগত পটভূমিতে, ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ক্ষেত্রে নয়।
তবে কঠোর নিয়মের মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের জন্য জাতীয় শিক্ষার্থী নিয়োগ পরিকল্পনায় ২৯৫,০০০ স্থানই বহাল রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫,০০০ বেশি। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো সৎ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার খ্যাতি রক্ষা করতে নেওয়া হয়েছে।
ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া (আইইএএ) এই পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে। আইইএএ- এর প্রধান ফিল হানি উড উল্লেখ করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পড়াশোনা করতে পারছেন না, তারা এখন অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন করছেন, অনেক ক্ষেত্রে নকল নথি ব্যবহার করছে। তাই কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
