মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজন ভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভ্যানচালক। দুর্ঘটনার সময় নিহতদের সঙ্গে থাকা একটি শিশু অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫), একই এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫) এবং ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার। তারা সবাই ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের যাত্রী ছিলেন।
এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভ্যানচালক রনি খান। তিনি ঘটমাঝি ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানে করে মস্তফাপুর থেকে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন তাসলিমা, কোহিনুর ও নয়ন। এ সময় তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল। ভ্যানটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তাতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা বরিশালগামী একটি কাভার্ডভ্যান বেপরোয়া গতিতে ভ্যানটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কোহিনুর বেগম ও নয়ন হাওলাদার নিহত হন।
আহত অবস্থায় তাসলিমা বেগম ও ভ্যানচালক রনিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় স্থানীয়রা অক্ষত অবস্থায় নিহতদের সঙ্গে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা তাতিবাড়ি এলাকায় মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রশিদ বলেন, ‘কাভার্ডভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে দুইজন ও হাসপাতালে একজন নিহত হয়েছেন। ভ্যানচালক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাভার্ডভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
