দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি পূরণে অভিবাসীদের গণনির্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। যার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিরোধী অভিযান চলাকালে এক নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য এবং এর প্রধান দুটি শহর মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলের কর্র্তৃপক্ষ। গত সোমবার মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন এই মামলার ঘোষণা দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডেমোক্র্যাট শাসিত এই রাজ্যে ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা জননিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল এসব তৎপরতাকে ফেডারেল আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, হাজার হাজার স্বল্প প্রশিক্ষিত ও সশস্ত্র এজেন্ট আমাদের জনপদে ঢুকে পড়েছে। মিনেসোটার বৈচিত্র্য ও ভিন্নমতের কারণে আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তিনি বলেন যদি নথিপত্রহীন অভিবাসীদের খুঁজে বের করাই লক্ষ্য হতো; তবে মিনিয়াপোলিস নয়, বরং ফ্লোরিডা বা টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্যগুলোয় অভিযান চালানো হতো। কারণ, সেখানে নথিপত্রহীন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।
গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের গুলিতে রেনে নিকোল গুড (৩৭) নামের এক মার্কিন নারী নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শহরটিতে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন আরও কিছু অঙ্গরাজ্যের মানুষও। মিনেসোটার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট-শাসিত ইলিনয় অঙ্গরাজ্যও একই ইস্যুতে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই মিনিয়াপোলিসে আরও কয়েক শ ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে রেনে গুডের মৃত্যুর প্রতিবাদে শহরটিতে প্রতিদিন শোকসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
