বান্নি মেলায় পুলিশের নিরবতায় জুয়ার আসর, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পলায়ন!

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের আমতলী আব্দুল্লাপুর এলাকায় গ্রামীণ বান্নি মেলাতে জুয়া খেলার আসর বসে চলে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। এখানে জুয়া খেলার সুযোগ পুলিশ প্রশাসন থেকে পেয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আব্দুল্লাহপুর গ্রামে।

সকাল থেকে কানাঘুঁষা চলছিল উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বান্নি মেলা বসবে কিনা? এ নিয়ে বিজয়নগর থানার ওসির সাথে বান্নি মেলা সংক্রান্ত দফায় দফায় কথা হয় স্থানীয়দের। এসময় ওসি রুমে বসা ছিল কয়েকজন সংবাদকর্মী। তখন ওসি বান্নি মেলা বসতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এবং থানার তখনকার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসারকে নির্দেশ দেন ফোর্স পাঠিয়ে বান্নি মেলা গুটিয়ে দিতে। কিন্তু দুপুরে বান্নি মেলা গুটিয়ে দিতে ওসি নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন না হয়ে এ মেলা চলে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত।

এদিকে বান্নি মেলায় জুয়া বসছে এমন খবরের ভিত্তিতে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের একটি টিম বান্নি মেলায় উপস্থিত হলে জুয়ারিরা তাদের আসর গুটিয়ে আড়াল হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন এসে বলল সকালে মেলা শুরু হলেও দুপুরের পর মেলায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে জুয়া আসর বসে। তখন পুলিশের একটি টিম মেলাতে আসেন। কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে পুলিশের এ টিম চলে যান। এরই মধ্যে সবকিছু তারা আলোচনা করে মেনেজ করে জুয়া খেলা শুরু করেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, মেলাতে জুয়া খেলা শুরু হওয়ার একটু পর চান্দুরা বিট পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন মেলাতে আসেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চলে যান। এসময় তাকে ম্যানেজ করে জুয়ার আসর পরিচালনা করা হয়েছে। এখন সাংবাদিক বলে আসছে এমন খবর পেয়ে তারা আসর ভেঙে দিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। 

এদিকে এসআই গিয়াস উদ্দিন মেনেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওসি স্যার মেলা বসতে নিষেধ করছিল। আমি এসে বাঁধা দিয়েছি। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখান থেকে কোন টাকা নেইনি। এটা সত্য নয়, মিথ্যা কথা।

এদিকে পুলিশ যদি নিষেধ ও বাঁধা দিয়ে থাকে তাহলে মেলা কি ভাবে রাত পর্যন্ত চলছে এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশের এ কর্মকর্তা।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমে মেলা জমবে কি না তা- নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে মেলার কোন কমিটি ছিল না। এলাকার কয়েকজন মিলে এটা পরিচালনা করেছে। তবে জুয়া খেলার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ওসি এ কে ফজলুল হকের মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত