দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দেওয়ার দায়ে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। আদালত জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন ঘোষণার জেরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে কর্র্তৃপক্ষকে বাধা দেওয়ার দায়ে ইউন সুক-ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, ইউন সুক-ইওল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন; যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। রায়ে একজন বিচারক বলেছেন, ইউনের কর্মকাণ্ডে দেশ গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। কিন্তু তিনি এর জন্য কোনো অনুশোচনা করেননি।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টার অভিযোগে ইউন সুক-ইওলের বিচার চলছে। তার বিরুদ্ধে চলা চারটি মামলার মধ্যে একটির রায় হলো। ৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ করেই সামরিক আইন জারি করেন। তবে বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় সংসদ দ্রুত তা বাতিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে সেনাদের সংসদ দখলে বাধা দেয়। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পরে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারির ঘটনা দেশটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ বছর বয়সী ইউনের বিরুদ্ধে সরকারি নথি জালিয়াতি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিক উপায়ে সামরিক আইন জারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে যখন বিচারক সাজা ঘোষণা করছিলেন, তখন ইউনকে অনেকটা বিমর্ষ ও রোগা দেখাচ্ছিল। তবে সাজা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাননি। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইউনের আইনজীবী ইউ জং-হওয়া বলেন, আমরা মনে করি এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।
