মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ধারণ করা প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চক্রান্তের অংশ।
গতকাল শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত আসছে। এসব রোধে সরকার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বরং প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে আসছে।
নেতাদের অভিযোগ, ‘সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি’ এমন অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলেন, এটি স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র। এর আগেও তথাকথিত ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের কথা বলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণসংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুখে মুক্তিযুদ্ধকে জাতীয় গৌরব বলা হলেও বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন ও ধ্বংসের মতো কর্মকা-ে জড়িত। সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, যদি সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়, তাহলে গণচাঁদা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হোক। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের আওতায় ৮০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যচিত্র, ৮০ হাজার ইউটিউব কনটেন্ট এবং ১৬টি প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
