কুমিল্লায় চাচা-ভাতিজার সহিংসতায় নিহত ২, দুই দিনেও মামলা হয়নি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে সংঘটিত সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার ৩৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এখনো মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীয়ার গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— আলীয়ার গ্রামের মৃত হাজী সালামত উল্লাহর ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহাম্মদ এবং আবুল খায়েরের ছেলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন নয়ন। সম্পর্কে তারা চাচা ও ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সোহাগ, কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াছিন, জাহিদুল ইসলাম, আলাদ্দিন, আব্দুর রব, মামুন ভূঁইয়া, রোকম আলী, মনির আহম্মদ, নিজাম উদ্দিন, মহিন উদ্দিন, খোরশেদ ও নেছার উদ্দিন রয়েছেন। গুরুতর আহত সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ বছর ধরে আলাউদ্দিন মেম্বার ও ছালেহ আহাম্মদ মেম্বারের গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বার নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি পরিবারের সদস্য দীর্ঘদিন গ্রামছাড়া ছিলেন।

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর গত ৯ জানুয়ারি ছালেহ আহাম্মদ মেম্বারের গোষ্ঠীর কিছু লোক গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার গ্রামের রাস্তা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের প্রায় ৩০০ জন দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

হামলাকারীরা ছালেহ আহাম্মদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় এবং আনোয়ার হোসেন নয়নকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত