ইসলামে জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যা জ্ঞান অর্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন মূলত জ্ঞানের মাধ্যমেই। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই জ্ঞান চর্চাকে ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামের প্রচার শুরু হয়েছিল জ্ঞানের বার্তার মাধ্যমে। হেরা গুহায় জিবরাইল (আ.) যখন প্রথম অহি নিয়ে আসেন, তখন প্রথম শব্দটিই ছিল ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়ো। ইরশাদ হয়েছে, ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক ১) আল্লাহতায়ালা চাইলে নামাজ বা রোজার নির্দেশ দিয়ে ইসলামের প্রথম অহি শুরু করতে পারতেন, কিন্তু তিনি পড়ার নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, সঠিক জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত ইবাদত বা জীবন পরিচালনা সম্ভব নয়।

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞানী ও অজ্ঞদের মধ্যকার পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করবেন।’ (সুরা মুজাদালাহ ১১) ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ (সুরা জুমার ৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ)

ইসলাম শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭৫টি আয়াতে সরাসরি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহাকাশ, চিকিৎসা এবং প্রকৃতির নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনের জন্য মহান আল্লাহ বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। মধ্যযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অভাবনীয় সাফল্য (যেমন ইবনে সিনা, আল-বিরুনি, আল-খাওয়ারিজমি) মূলত ইসলামের এই অনুপ্রেরণারই ফসল।

ইসলামে জ্ঞান চর্চার মূল লক্ষ্য হলো সত্যকে জানা এবং স্রষ্টাকে চেনা। জ্ঞান কেবল জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার। একটি দেশ বা জাতি তখনই উন্নত হয়, যখন সে জাতির জ্ঞানীরা আমলদার হয় এবং সাধারণ মানুষ জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হয়।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত