আইসিজেতে আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু মিয়ানমারের

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে মিয়ানমার। গত শুক্রবার শুনানির প্রথম দিন মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, গাম্বিয়া এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতকে তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রমাণের অভাবে তা টেকসই নয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, মিয়ানমার পরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেয়েছিল।

শুনানিতে জান্তা প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের সরকারের দাবি, রাখাইন প্রদেশ রোহিঙ্গা বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান হয়নি; অভিযান হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে। কো কো হ্লাইং নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আইসিজে শুনানিতে হাজির হয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এই মামলার রায় প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর নয়। আবেগপ্রবণ ভাষা ও অস্পষ্ট কাল্পনিক চিত্র কখনোই সঠিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের বিকল্প হতে পারে না। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দাবি, সে সময় একাধিক হামলায় এক ডজনের বেশি সেনা নিহত হওয়ার পরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এর আগে শুনানিপর্বের শুরুতে আবেদনকারী গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল। ২০১৭ সাল থেকে বেশ কয়েক দফায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সে সময় দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় ছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ মায়ানমারের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গৃহবন্দি হন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালান। জান্তা জমানাতেও রোহিঙ্গারা ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত