রাজধানীর রাস্তায় ই-রিকশা বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা সাধারণ পথচারীদের ভুগিয়ে রাস্তা ছাড়েন তারা। অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশা করা অটোরিকশা চলাচল বন্ধ এবং চিকন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে এই কর্মসূচি করেন।
গতকাল আন্দোলনকারী রিকশাচালকরা বাড্ডার ফুজি টাওয়ারের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কুড়িল থেকে রামপুরা সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সড়কে চলাচলকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রিকশাচালকদের ভাষ্য, ঢাকায় ৩০০ ই-রিকশা নামানো হয়েছে, সেগুলো চালানো যাবে না। এই দাবি নিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে সেøাগান দেন তারা। এ সময় লিথিয়াম অটো চললে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন অটোরিকশা চালকরা।
ডিএমপির বাড্ডা থানার ওসি নাসিরুল আমীন জানান, ঢাকার সড়কে ই-রিকশা বন্ধের দাবিতে ফুজি টাওয়ার এলাকায় প্রায় ২ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মিছিল নিয়ে এসে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের সড়ক অবরোধে এই এলাকায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কিছু সময় পর তারা মিছিল নিয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য যানবাহন। যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে হেঁটে যাচ্ছেন গন্তব্যে। যাত্রীদের হেঁটে চলার লম্বা লাইন দুই পাশের সড়কে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
পথচারী আব্দুর রউফ জানান, তিনি ব্যবসায়িক কাজে গুলিস্তানে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে ওঠার পর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এসে অবরোধের কারণে গাড়ি আটকে যায়। পরে হেঁটেই গন্তব্যে যান।
আরেক ভুক্তভোগী রামিম হোসেন জানান, গত একসপ্তাহ ধরে আমার মা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে মাকে দেখে ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করতে। গিয়ে ২ ঘণ্টা ধরে বাসে বসেছিলেন। পরে বাধ্য হয়ে হেঁটে রওনা দেন।
