দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে গণভোটকে হ্যাঁ বলুন: রিজওয়ানা হাসান

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমরা এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, জনগণের মুখোমুখি হয়ে সৎ উত্তর দেওয়ার সাহস থাকবে না। কাজেই আমরা ব্যক্তি-দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে গণভোটকে হ্যাঁ বলবো। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনি স্কুল মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভোটের রিকশার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ সব কথা বলেন ।

গণভোট নিয়ে বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, হ্যাঁ ভোটে সিল মারলে সংস্কার যেগুলো হবে দেশের জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করবে।  এখানে একটা প্রশ্ন এমন আছে, জুলাই সনদে যে প্রশ্নগুলো উপরে নেই। অন্য ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার করেছে। তারা যদি জয়ী হয় তবে তারা ওই অঙ্গীকার পূরণ করবে। আপনি সাধারণগুলোতে হ্যাঁ বললেই সাথে সাথে বাকিগুলোরেও হ্যাঁ বললেন। এখন এমন প্রশ্ন আসতে পারে, কেন একটা একটা করে প্রশ্ন দিলেন না। আপনি যেইভাবে পড়াশোনা করেন বাংলাদেশে অনেকেই সেইভাবে পড়াশোনা করে নেই। এই সব প্রশ্নগুলো পড়ে হ্যাঁ, না বলতে পারবে না।  ফলে একটা প্রশ্ন এবং কাঠামোর মধ্যে বার বার তাদের বুঝিয়েছি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আপনি যখন একটি দলের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু তাদের সব কিছুই কি পছন্দ হয়। তারপরেও তো ওই মার্কাতেই ভোট দেয়। তারা ভাবে ৮০ ভাগ পছন্দ হয় এবং ২০ ভাগ হয় না। এটাও সেই রকম সকল প্রস্তাবকে শারীরিকভাবে ইতিবাচক ধরে নিয়ে হ্যাঁ বা না বলতে হবে বলে  জানান তিনি। 

উপদেষ্টা পূর্বের বিচার বিভাগ নিয়ে বলেন, ২০১১ সালে বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি হ্যাঁ ভোট দেন বিচার বিভাগের ওপর আর বন্দুক রাখা যাবে না। যদি আপনি হ্যাঁ ভোট দেন তবে এইভাবে আর সংবিধান সংশোধন করা যাবে না।  দেশে চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। চার মিনিটে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এটা তো আমরা চাই না। আমরা চাই জনগণ জানুক আমরা তাদের পক্ষ নিয়ে কি কাজ করেছি। তেমনিভাবে আমরা বলি না প্রশাসনের অমুক সচিব আমার লোক, তমুক সচিব তার লোক এমনটা হওয়ার কথা না।  প্রশাসনে দলের লোক থাকবে কেন?  প্রশাসনে জনগণের লোক থাকবে। আমি কেন প্রশাসনে এই দলের লোক খুঁজবো, ওই দলের লোক খুঁজবো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

বিগত নির্বাচনগুলো প্রহসন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এমন সব প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মানুষ ভোট দেয় নাই। মানুষ কি ভাবতে পারে ১৮ বছরের নির্বাচনের কথা? এমনই এক তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা ছিলাম। তারা নিজেরাই নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছেন। সেই দিনের আমাদের অবসান ঘটাতে হবে। 

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবা ফারজানা, তথ্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত