আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে এক ভয়াবহ তুষারঝড় ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। টেক্সাস থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই ঝড় জনজীবনকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ কারণে ইতোমধ্যে ১৬টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। খবর সিএনএন।
ঝড়ের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে উঠেছে ‘আইস স্টর্ম’ বা বরফবৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে গাছের ডাল ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর ভারী বরফ জমে তা ভেঙে পড়ছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
প্রচণ্ড আবহাওয়ার প্রভাবে ইতোমধ্যে আট হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বরফে ঢেকে যাওয়ায় সড়কগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা অনুভব করবেন। এই তীব্র শীতে জমে থাকা বরফ ও তুষার সহজে গলবে না, যা বিদ্যুৎহীন পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতিকে আরও কষ্টকর করে তুলবে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, বরফের পুরুত্ব অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। সামান্য বরফে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দশমিক ২৫ ইঞ্চি বা তার বেশি বরফ জমলে গাছের ডাল ভাঙতে শুরু করে এবং বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়। আর দশমিক ৫ ইঞ্চি বা তার বেশি পুরু বরফ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হতে পারে।
