শারীরিক প্রতিবন্ধী এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। এ সময় ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. সুজন মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম হীরা, মো. দুলাল মিয়া, মো. আব্দুর রহিম মিয়া ও মো. আবুল কাশেম।
সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশে জানান, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার নাক, মুখ ও হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরো জানান, সুজন ও হীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে নিশানা করে। ১৯ জানুয়ারি বিকালে তারা নানাখীবাজার থেকে আনন্দবাজার যাওয়ার কথা বলে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে। পথে একটি দোকানে বসে তাকে পানীয়র সঙ্গে কাশির সিরাপ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে মুছারচরের নির্জন এলাকায় নিয়ে সোহেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে তারা পালিয়ে যান। হত্যার পর অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের একটি গ্যারেজে রাখা হয় এবং পরদিন তা বিক্রি করে দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা গেছে, দুলাল মিয়া, আব্দুর রহিম ও আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের হেফাজত থেকেই নিহত সোহেলের রিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল রাশেদ আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন ও হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকি তিনজন চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
