বাংলাদেশ ইস্যুতে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুলল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা দাবি করেছেন, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত ও প্ররোচিত করেছে, যার ফলে বাংলাদেশ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার দাবি তুলেছিল। আইসিসি এই পরিবর্তন করতে পারেনি কারণ শেষ মুহূর্তে পুরো টুর্নামেন্টের সূচি বদলানো সম্ভব ছিল না।

এদিকে ভারত ও বাংলাদেশকে খেলানো নিয়ে পাকিস্তান আইসিসির দ্বৈতনীতির প্রতিবাদ করে বিশ্বকাপ বয়কটের দিকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে গতকাল সিদ্ধান্ত নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। পরে তিনি জানান, শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বিশ্বকাপ সরাসরি বয়কট নয়, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কলম্বোয় তাদের ম্যাচটি নাও খেলার পথ বেছে নিতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার জন্য ভারতীয় বোর্ডের সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার জের ধরে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ শিফট করার অনুরোধ জানায় আইসিসিকে, যা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা রাখেনি। এ নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক ভারতীয় বোর্ড এতদিন চুপ ছিল। গতকাল বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব শুক্লা বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ খেলুক। আমরা নিশ্চিত করেছি যে দলকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং কোনো সমস্যা হবে না। তাদের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এখানে খেলবে না।’

ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট রাজিব শুক্লা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বলেছে তারা দল পাঠাতে পারবে না এবং তারা কেবল কলম্বোয় খেলবে। শেষ মুহূর্তে পুরো সূচি পরিবর্তন করা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ কারণেই এই পরিস্থিতি হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন রাজিব শুক্লা, ‘পাকিস্তান তাদের ভুলভাবে উৎসাহ দিচ্ছে; অযথা বাংলাদেশকে প্ররোচিত করছে। পাকিস্তান এই কাজে বড় ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তানের এমন করা উচিত নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের সহানুভূতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করছে। ‘বিশ্ব জানে পাকিস্তান বাংলাদেশিদের সঙ্গে কী অত্যাচার করেছে। বাংলাদেশিরাও জানে দেশ বিভক্ত হওয়ার সময় কত অন্যায় হয়েছে। এখন তারা (পাকিস্তান) তাদের ভুল পথে নিতে চাচ্ছে সহানুভূতিশীল হওয়ার ভান করে, যা ভুল’ বলেন শুক্লা।

ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান : পাকিস্তান আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতকে দুবাইয়ে সব ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করেছিল আইসিসি। সেই আইসিসি নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে না খেলতে চাওয়ায় বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার অনুমোদন দেয়নি। এ প্রসঙ্গে মহসিন নাকভি শনিবার বলেছিলেন, ‘আপনি দ্বিমুখী নীতি রাখতে পারেন না। আপনি বলতে পারেন না যে একটি দেশের জন্য [ভারত] তারা যা খুশি করতে পারে এবং অন্যদের সম্পূর্ণ বিপরীতটা করতে হবে। এই কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি এবং স্পষ্ট করেছি যে বাংলাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তাদের বিশ্বকাপে খেলা উচিত, তারা ক্রিকেটের একটি বড় অংশীদার।’

বাংলাদেশের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে পিসিবি চেয়ারম্যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে আমরা যেন সব বিকল্প খোলা রেখে এর সমাধান করি। এটি একমত হওয়া গেছে যে, (অংশগ্রহণের বিষয়ে) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার বা সোমবার নেওয়া হবে।’

ধারণা করা হচ্ছে যে, বিশ্বকাপ সরাসরি বয়কট করা পিসিবির একমাত্র বিকল্প নয়। একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ হিসেবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা চলছে। নাকভির ইঙ্গিত অনুযায়ী পাকিস্তান যদি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়, তবে তারা অনেক দেরি করে ফেলবে। টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, যা ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে পিসিবির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিন থেকে মাত্র চার দিন আগে।

পাকিস্তানের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে আইসিসির কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে তাদের আপত্তি জানানো হবে। পাকিস্তান মনে করে বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণ ন্যায্য হয়নি এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানোই হবে আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠির মূল বক্তব্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত