মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কায় পেছাল মুদ্রানীতি ঘোষণা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় মুদ্রানীতি ঘোষণা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণের পর এই- বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কায় সেটি স্থগিত করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য দেখে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, মুদ্রানীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব কাঠামোগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। স্টেকহোল্ডারদের মতামত, বিভিন্ন সমীক্ষা ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে নীতি তৈরি করা হয়। নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব নীতির প্রভাব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। অক্টোবর-ডিসেম্বর

মাসে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ১৭ থেকে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে ওঠার কারণে সুদহার কমানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ, বাস্তবে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। উচ্চ সুদ, ব্যাংক ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী, স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ), স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) এবং ওভারনাইট রেপো হারের পরিবর্তন নেই।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার সময় রেপো হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর তিন দফায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট করে বাড়িয়ে তা ১০ শতাংশে নেওয়া হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকঋণের সুদহারে। বর্তমানে গড় ঋণসুদ ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি অব্যাহত থাকবে। ফলে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর দিকনির্দেশনা ছাড়া ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত