চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে একই আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেছেন, ‘উনি তো ৪০ বছর ধরে চাকুরিও করেন না ব্যবসাও করেন না- উনি চলেন কিভাবে?
১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ প্রশ্নের অবতারণা করেন।
জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি প্রার্থী প্রশ্ন তুলছেন যে, তিনি চল্লিশ বছর ধরে রাজনীতি করছেন আর আমি সদ্য রাজনীতিতে এসে কী দিতে পারবো? আমার প্রশ্ন উনি চল্লিশ বছর কী করেছেন? আমি তো ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। ‘এই চল্লিশ বছর উনি কি ব্যবসা করেছেন নাকি চাকুরি করেছেন? উনি চলেন ক্যামনে?’
নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সহধর্মিনী আমেনা শাহীন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. ফজলুল হক বলেন, আমি শিক্ষা জীবন শেষ করে ইরানে চাকুরি করেছি। চার বছর ওখানে থাকার পর দেশে ফিরে এখানকার অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এরপর আমি আর বিদেশে না গিয়ে দেশে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। সীমাহীন দূর্নীতি ও মেধাহীন প্রশাসনের কারণে আমাদের দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে হেলথকেয়ার সেন্টার করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি সেখানে হাজার হাজার বস্তিবাসী মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ দূর করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও অকেজো হয়ে পড়া খাল উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দূর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন ব্যর্থ হয় বলে মন্তব্য করে ডা. ফজলুল হক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় না হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না। জামায়াত ইসলামী দুর্ণীতিমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি- ‘আমি নিজেও দুর্নীতি করবোনা কাউকে দূর্নীতি করতেও দেবোনা।
