তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্কের মধ্যেই ভারতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উঠেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিত্র এক সংসদ সদস্য এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্ধ্রপ্রদেশভিত্তিক তেলুগু দেশম পার্টির সাংসদ এল.এস.কে. দেবরায়ালু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি শিশুদের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ তথ্য বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুফল পাচ্ছে অন্য দেশগুলো।
প্রস্তাবিত সোশ্যাল মিডিয়া (বয়সসীমা ও অনলাইন নিরাপত্তা) বিল অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। বয়স যাচাইয়ের পুরো দায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থাকবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এটি একটি বেসরকারি সদস্যের বিল হওয়ায় এখনো সরকারিভাবে সংসদে উত্থাপিত হয়নি। তবে এমন বিল প্রায়ই সংসদে আলোচনা তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়সসীমা নেই। অথচ দেশটিতে এক বিলিয়নের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন স্মার্টফোন রয়েছে।
বিশ্বজুড়েই এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও গ্রিসও বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবছে। এ বিষয়ে মেটা ও অ্যালফাবেটসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে মেটা জানিয়েছিল, তারা অভিভাবকদের নজরদারির পক্ষে থাকলেও সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিলে কিশোর-কিশোরীরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।
