দিনাজপুরে নির্বাচনী দায়িত্বে আওয়ামী লীগের ৩ নেতা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে নির্বাচনের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকায় বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় মোট ৫৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩০৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৩১০ জন পোলিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টন করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অফিসারকে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে গত ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় পোলিং অফিসার হিসেবে ওই তিন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে। তারা হলেন খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক আব্দুস সাত্তার, চৌরাইট মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার ও খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুস সালাম সরকার।

আব্দুস সাত্তার ফুলবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলা মামলার ৮ নম্বর আসামি।

আবদুস সালাম সরকার ৬ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিস্ফোরক মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া মুরাদ হোসেন সরকার খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

জাতীয় নগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের শাসনামলে এই শিক্ষকরা নির্বাচনী দায়িত্বে থেকে ডামি নির্বাচনে সহায়তা করে হাসিনার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিল। সেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পদধারী ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গোপনে কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করেই এসব তালিকা করা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তালিকা থেকে ওইসব নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আছেন তারা শুধু আগের ওই ব্যক্তিদেরই চেনেন, নতুন করে কাউকে চেনেন না। ওই হিসেবেই তারা বিগত দিনের পোলিং অফিসারদের তালিকা করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্কভাবে কাজ করা উচিত ছিল। আমরা মনে করি তারা উদাসীন ছিলেন, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দপ্তর থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছি। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মূলত তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান বলেন, ‘তালিকায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা মামলার আসামি থাকলে তাদের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত