নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কায়দায় ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় ধর্মকে ব্যবহার করে হিংস্র ও অসভ্য আচরণের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা বিস্মিত ও হতভাগ হয়েছি। ক্যান্টনমেন্টের গেটে একজন প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি দলের প্রতিনিধি। তিনি নিজের নাম পরিচয় না দিয়ে বারবার বলেছেন যে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা অত্যন্ত অদ্ভুত।
রিজভী বলেন, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেখানে এত অসভ্য ও আনপার্লামেন্টারি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সবাই নিজের চোখে দেখেছেন। এই ধরনের কথা ও আচরণের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী ও হিংস্র মানসিকতার প্রকাশ ঘটে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অন্তত সেনাবাহিনীকে সব ধরনের সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখতে চেয়েছিলাম। একটি প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদা দিয়ে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, কারণ দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় যে অশুভ ও বিকৃত আচরণ প্রকাশ পেয়েছে, তা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছি এবং ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করেছি। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে অনেকবার তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু কখনো এমন অশালীন ও আনপার্লামেন্টারি ভাষা ব্যবহার করিনি।
তিনি আরও বলেন, আজ নারীরা অপমানজনক বক্তব্যের শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনারও একটি গণতান্ত্রিক মানদণ্ড রয়েছে, যা পৃথিবীর সব দেশেই দেখা যায়। কিন্তু সেই মানদণ্ডগুলো আজ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জনগণ সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন। আগামী ১২ তারিখ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিতভাবে গণতন্ত্রকামী শক্তিকেই বেছে নেবেন। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চায়। গণতন্ত্র মানে সভ্য মানুষের শাসন, প্রগতির শাসন এবং সমাজকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেওয়ার শাসন।
