সিলেটে জামায়াত আমিরের জনসভা শনিবার, ব্যাপক প্রস্তুতি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী সফরে সিলেট আসছেন। আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সিলেটের ঐতিসাহিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

আলিয়া মাদরাসা মাঠের নির্বাচনী জনসভা ও জামায়াতের আমিরের সিলেট সফরসহ বিস্তারিত কর্মসূচি অবহিত করতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত এক প্রেস ব্রিফিং করেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় জোটের মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর জামায়াত আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, শনিবার বিকেল ৩টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভায় সিলেট জেলার ৬টি আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৪টি আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। জনসভা সফলে ইতিমধ্যে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমরা জনসভাকে সফল করতে সাংবাদিকসহ সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হবে এবং সাড়ে ৪টার মধ্যে শেষ হবে। জনসভায় যোগদানের জন্য জামায়াত আমির হেলিকপ্টারে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অবতরণ করবেন। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে জনসভায় যোগদান করবেন। সময় স্বল্পতার কারণে সুনামগঞ্জের জনসভা বাতিল করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতি নির্বাচনে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার বিনাভোটে, মধ্যরাতে ও আমি-ডামি নির্বাচনের মাধ্যম মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। এবার মানুষ সবধরণের শঙ্কামুক্ত থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু অবৈধ অস্ত্র, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ব্যর্থতা ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে কার্যকর অভিযান না থাকায় জনমনে নানা আশঙ্কা বিরাজ করছে।

এরই মধ্যে সিলেট নগরীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি নগরীর আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনতাইকারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, নগরীর সুবিদবাজার থেকে সেনাবাহিনী কর্তৃক এক সন্ত্রাসীকে আটকের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ এবং তাকে দ্রুততম সময়ে মুক্ত করে ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

তিনি বলেন, সিলেটের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সার্থে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিপক্ষের প্রার্থীর নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষ জনমনে ভীতির সঞ্চার করছে। প্রশাসনকে এই ভীতি দূর করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-১ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক হাফিজ আবদুল হাই হারুন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, এলডিপির সিলেট মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, এবি পার্টির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক মো. ওমর ফারুক, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত