চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া তেওয়ারীহাট ডিসি সড়ক-আধারমানিক সড়কে প্রশাসনের অগোচরে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিংয়ের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। দায়সারাভাবে নিম্নমানের কাজ করার পরদিন সকাল থেকেই উঠে যাচ্ছে এ কার্পেটিং। ফলে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন যানবাহন ও পথচারী।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গতকাল বুধবার রাতে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়। কিন্তু পরদিন সকালে এ সড়কের ডেলিয়া পাড়া এলাকায় রাস্তার নরম কার্পেটিং হাতের টানে তুলে নিচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায় ,২০১৭-১৮ অর্থবছরে টেন্ডারকৃত এ সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল ৯৩ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দিপু কান্তি পাল এ সড়কটি সংস্কারের কার্যাদেশ পান। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত অর্থ বরাদ্দ না থাকার কারণে সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসেম জানান, এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এমনি সড়কটি বান্দরবান জেলার সাথে সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সড়ক সংস্কার করতে গিয়ে ঠিকাদাররা মারত্মক অনিয়ম করেছে। কাপের্টিংয়ের মধ্যে যে পরিমাণ পুরুত্ব দেওয়ার কথা সেটা দেওয়া হয়নি। ফলে কাজ শেষ করার পরদিন থেকে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, সড়কটি ব্যস্ত একটি সড়ক। এরকম সড়কে রাতে কাজ শেষ করে সকালে যদি কার্পেটিং উঠে যায় তাহলে বোঝা যাচ্ছে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ অবহিত করেছি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. বাবুল বলেন, আমাদের ভুল হয়েছে প্রশাসনকে না জানিয়ে কাজটি করা। রাস্তার কিছু অংশে আমাদের কর্মচারী নিম্নমানের কাজ করেছে। আমরা পুনরায় নিজ উদ্যোগে সে জায়গাগুলো কার্যাদেশ মোতাবেক সংস্কার করে দেব।
লোহাগাড়া এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার মইনুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে রাস্তাটির ঠিকাদারকে বলেছিলাম কাজটি কিভাবে করবে আমরা দেখিয়ে দেব। কিন্তু তারা আমাদের না জানিয়ে নিম্নমানের কাজ করেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, সড়কের অনিয়মের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে অবগত আছি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের গোপন রেখে সড়কের কাজ শেষ করেছে। তবে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত তাদের প্রাপ্ত জামানত ৯ লাখ টাকা ফেরত দিচ্ছি না। কাজ সঠিকভাবে শেষ করার পর এ টাকা ফেরত পাবে।
