বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো প্রতারক বেইমানদের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব দিতে চায় না। বারবার একটা কথা বলা হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আপনাদের কী ছিল বাংলাদেশের মানুষ তা দেখেছে। এ অভিজ্ঞতা ভালো অভিজ্ঞতা না, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, সেই পুরনো কথা বলে আর বিব্রত করতে চাই না। আপনারা ৫ আগস্টের পর থেকে যা করেছেন, তাই যথেষ্ট আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার। অভিজ্ঞতার কথা বলে নিজেদের আর অপমানিত করবেন না।
গতকাল শুক্রবার সকালে সাভার পৌর এলাকার চাপাইন রোডে জাবাল-ই-নূর মাদ্রাসার বিপরীত পাশে নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ হাদি হত্যার বিচারে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেখেছি শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে তার পরিবার অবস্থান নিয়েছিল। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, শহীদ হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারা অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসের লেখা থাকবে। এখনো সময় আছে, হাদির পরিবারকে যেন কোনোভাবে অসম্মান করা না হয়। অতিসত্বর এই বিচারের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও বাধার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করে লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের রুখে দেওয়ার দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। আমাদের মা-বোনদের তারা ভয় দেখাচ্ছে। কারণ, আমাদের মা-বোনরা ১১-দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করে ফেলেছেন। আমাদের তরুণ সমাজও গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা সেই গণজোয়ারকে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মা-বোনদের তারা টার্গেট করছে, তাদের আটকানোর চেষ্টা করছে, প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন নতুনদের সুযোগ দিতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, কেউ যদি ভোটচুরি করার চেষ্টা করে ও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি এরকম চেষ্টা করা হলে আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটে যাবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইন প্রমুখ।
