যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনার আশা ইরানের

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও পারমাণবিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারের একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেই তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কোনো ভূখণ্ড বা পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে তেহরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো দর-কষাকষি হয়নি। তার দাবি, এ কর্মসূচি ‘কখনোই দর-কষাকষির’ বিষয় ছিল না। মাস্কটে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনাকে একটি ভালো শুরু বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শুক্রবারের আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করলেও ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তেল রপ্তানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি।

তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকের কথা থাকলেও ইরান ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে বৈঠকটি এগিয়ে আনা হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সপ্তম বৈঠক। গতকাল রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা ইরান ইস্যুতে আলোচনা করবেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমা আরোপের পক্ষপাতি নেতানিয়াহু। সেই সঙ্গে ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা জরুরি বলেও মনে করে ইসরায়েল।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অলাভজনক সংবাদ পর্যবেক্ষণ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার জন্য সব ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করাসহ ইরানকে পাঁচটি কঠিন শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংসের শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্সের মতে, এই শর্ত দেওয়াই হয়েছে যেন ইরান তা প্রত্যাখান করে সে ক্ষেত্রে এটিকে তেহরানে হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে ওয়াশিংটন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত