শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর ১০৪তম জন্মদিন আজ। ১৯২৩ সালের আজকের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার পুরো নাম আবুল কালাম মোহাম্মদ কবীর। ডাকনাম মানিক। তিনি অধ্যাপক কবীর চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত। তার পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলের গোপাইরবাগ গ্রামের মুন্সীবাড়ি। বাবার নাম খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ও মা আফিয়া বেগম। তার ছোট ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও বোন ফেরদৌসী মজুমদার বাংলাদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি কবীর চৌধুরীর অনুরাগ সহজাত। বাংলা ও ইংরেজিতে মৌলিক সমালোচনামূলক গ্রন্থসহ তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। ১৯৯৮ সালে তিনি দেশের জাতীয় অধ্যাপক হন। নব্বইয়ের দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে তিনি সমমনাদের নিয়ে গঠন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এছাড়া তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেযোগ্য-প্রাচীন ইংরেজি কাব্যসাহিত্য, আধুনিক মার্কিন সাহিত্য, শেক্সপিয়র থেকে ডিলান টমাস, সাহিত্য কোষ, ইউরোপের দশ নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচনা ও নন্দনতত্ত্ব পরিভাষা, ছয় সঙ্গী,শেক্সপিয়র ও তার মানুষেরা, অ্যাবসার্ড নাটক, পুশকিন ও অন্যান্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ছোটদের ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস, ছবি কথা সুর,মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় ইত্যাদি।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯১ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৮ বছরে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে এই শিক্ষাবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
