জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস পরেই নির্বাচনের ডাক দিয়ে জনগণের একটি সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট চেয়েছিলেন সানায়ে তাকাইচি। বিশ্লেষকরা এটিকে বেশ বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে তাকাইচির এই বাজি সফল হয়েছে; ভোটাররা তার অর্থনৈতিক নীতি এবং অভিবাসন ও চীনের প্রতি কঠোর অবস্থানের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন। জাপানের সংবাদমাধ্যম এনএইচকে তথ্য অনুযায়ী, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নেতৃত্বাধীন জোট জাপানের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩৫২টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে এলডিপি একাই ৩১৬টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। তার এই আপাত সাফল্য তার পূর্বসূরি দুজনের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের সময়ে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে দলটি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। নির্বাচনে জয়ের পর তাকাইচি এনএইচকে-কে বলেন, তিনি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন কারণ তার মনে হয়েছিল ‘জনগণের সমর্থন না নিয়ে কোনোমতে বিষয়গুলোকে টেনে নিয়ে যাওয়া ভুল হবে’।
জাপানে কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় আছে এলডিপি। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতির কারণে দলটি জনসমর্থন হারিয়েছিল। তবে দল এখন শক্তিশালী অবস্থানে থাকায়, তাকাইচি আগ্রাসী সরকারি ব্যয় কর্মসূচি এবং বিস্তৃত জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে খুব কম বাধার সম্মুখীন হবেন। গতকাল সোমবার জাপানি শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা গেছে। কারণ ভোটাররা তার সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতিকে সবুজসংকেত দিয়েছেন। লেনদেনের শুরুতেই বেঞ্চমার্ক ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। গত বছরের শেষদিকে তাকাইচি এলডিপির প্রধান পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ৬৪ বছর বয়সী ‘লৌহমানবী’ শীতকালে আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন। তার সোজাসাপ্টা কথা, কঠোর পরিশ্রমী ভাবমূর্তি ভোটারদের আকৃষ্ট করলেও তাকাইচির কট্টর-জাতীয়তাবাদী ঝোঁক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি জোর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করেছে। তার কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতিও বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
