বিশ্বকাপ বর্জনে শাস্তি হবে না জেনে হাফ ছেড়ে বাঁচল বিসিবি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের পর বড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বিসিবি কর্মকর্তারা।

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই আইসিসির পক্ষ থেকে আর্থিক কিংবা ক্রীড়াভিত্তিক শাস্তি আসতে পারে—এমন শঙ্কা ছিল দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে। কারণ, বাংলাদেশ না খেলায় আইসিসির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।

তবে আইসিসি ৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বিশ্বকাপ বর্জনের কারণে বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াভিত্তিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় মূল পর্বে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক সংযুক্ততার দিক থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি ক্রিকেট ইকোসিস্টেম। স্বল্পমেয়াদি কোনো বিঘ্ন দিয়ে বাংলাদেশকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না।”

আইসিসি আরও জানায়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে দুই শত মিলিয়নের বেশি ক্রিকেটভক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের (ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজন) আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করা হবে। তবে এটি আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত সাপেক্ষে বাস্তবায়িত হবে।

এ বিষয়ে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ক্রিকবাজকে বলেন, “ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের পর অনেক ধরনের কথা বাতাসে ভাসছিল। কোনো আর্থিক শাস্তি না হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি আসতে পারত, সেগুলো থেমে গেছে। বিশ্বকাপ না খেলায় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও আছে। সেটি সরাসরি আর্থিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া না গেলেও, ভবিষ্যতে দেশে বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে—যেমন নারী বিশ্বকাপ।”

ফারুক আহমেদ জানান, আগামী বছর বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব–১৯ নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় বাংলাদেশে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিসিবির আরেক সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। “শুধু শাস্তিই নয়, আরও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারত। কিন্তু লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে আইসিসির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে", বলেন তিনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত