জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের একাধিক আসনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলা, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটের আশঙ্কার কথা তুলেছেন।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় সেসব এলাকা থেকে জামায়েতের নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনী এলাকায় এসে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বহিরাগতদের উপস্থিতি তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাকেরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ ফেব্রুযারি ফরিদপুর ইউনিয়নের গাজীতলা বাজারে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগসংক্রান্ত সভায় অতর্কিত হামলায় সাত থেকে আটজন আহত হন। একই দিনে গারুড়িয়া ইউনিয়নের দেউলি গ্রামেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লাকে ঘিরে টাকা বিতরণের যে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, তা অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ও বরিশাল-৫ এবং বরিশাল-৬ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল করিম গতকাল দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা রয়েছে। ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত হতে পারছি না।’ বরগুনা ও পটুয়াখালীতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও সরওয়ারের ঘনিষ্ঠজন আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, ‘বিএনপি সহিংসতা বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্বাসী নয়; আমরা ভোটের মাধ্যমেই বিজয়ে আস্থা রাখি।’
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়লেও ভোটের পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সবার।
