দারিদ্র্যের দেয়ালে আটকা মিথিলার স্বপ্ন

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই খেলাধুলার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে মিথিলা মহুয়া। হকি, টেনিস, হাইজাম ও ফুটবলের পাশাপাশি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মানের খেলা উসুতে (ফেন্সিং) নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পেয়েছে সে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই স্বপ্নের দরজায় পা রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মিথিলার।

মিথিলা মহুয়া বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মাড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামে মুক্তার হোসেন ও হামিদা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে। বর্তমানে সে বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি মিথিলার প্রবল আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে সে। স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়ের ট্রায়াল পেরিয়ে সম্প্রতি বিকেএসপিতে উসু (ফেন্সিং) বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু মিথিলার বাবা মুক্তার হোসেন একজন ভ্যানচালক। নিত্যদিনের সংসার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। বিকেএসপিতে ভর্তি, খেলাধুলার সরঞ্জাম, যাতায়াত ও অন্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিথিলার মা হামিদা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েটা ছোট থেকেই খেলাধুলা খুব ভালোবাসে। বিকেএসপিতে চান্স পাওয়ার খবর শুনে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে যদি সে যেতে না পারে এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। গত বছরও আমার মেয়ে বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে যাওয়া হয়নি। এ বছরও সে উসু খেলায় সুযোগ পেয়েছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি হতে হবে। এজন্য ৫০-৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন।’ তাই সবাইকে তার মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মিথিলা জানায়, এর আগে সে টেনিসে সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু বাবার টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেনি। এবারও যথাসময়ে ভর্তি হতে না পারলে তার সুযোগ হাতছাড়া হবে।

মিথিলার প্রতিবেশি মলিন আলী (৪৫) জানান, টাকার অভাবে মিথিলার বিকেএসপিতে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মিথিলার ভর্তির জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন। তাই সমাজের বৃত্তবানদের মিথিলার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।

মিথিলার শিক্ষক সাজেদুর রহমান জানান, মিথিলার খেলাধুলার হাতেখড়ি তার হাতেই। ক্রিড়াঙ্গনে সে খুব দক্ষ। পড়াশোনাতেও সে মনোযোগী। সে যদি আর্থিক সহায়তা পায় তবে তার জীবনটা এগিয়ে যাবে।

‘নিজেরা করি’ সংগঠনের কর্মী প্রতিমা রায় বলেন, ‘আমাদের বাগাতিপাড়ায় ৬টি ফুটবল টিম আছে। বিকেএসপিতে পরীক্ষার জন্য আমরাই তাদের নিয়ে যাই। আমাদের সংস্থা থেকে তাদের বুট, জার্সিসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মিথিলাই কেবল বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার ভর্তির জন্য অর্থের প্রয়োজন। এজন্য ক্রিড়াপ্রেমীদের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’            

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফেন্সিং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খেলা। গ্রামের একজন মেয়ের বিকেএসপিতে চান্স পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। মিথিলার গতি, মানসিক দৃঢ়তা ও ফিটনেস এই খেলায় খুবই উপযোগী। আমি তার সফলতা কামনা করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত