মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর নতুন গঠিত শান্তি কমিটি 'বোর্ড অব পিস' গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করবে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিস-এর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন এবং সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গাজায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে হাজারো কর্মী মোতায়েন করা হবে।
প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য সীমিতসংখ্যক বিশ্বনেতাকে নিয়ে এই বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরে এটি একটি বৈশ্বিক সংঘাত মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, মিসর, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ উদ্যোগ ঘিরে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিন-কে আমন্ত্রণ জানানো এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প বলেন, হামাসকে 'পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক নিরস্ত্রীকরণে' প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। তিনি বোর্ডটিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে অভিহিত করেন।
ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৫৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন।
