ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের সামনের রাস্তা নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে প্রথম দিনের কাজ শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আমরা সমাজ পরিচ্ছন্ন করব ইনশাআল্লাহ। তার আগে আমরা শুরু করছি রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা দিয়ে। এরপরে সমাজের যে সমস্ত মানসিক আবর্জনা আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে দূর হবে। আল্লাহ চাইলে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সঙ্গীদের নিয়ে একটানা প্রায় ৩০ মিনিট তিনি রাস্তা ঝাড়ু দেন। এর আগে তিনি বাইতুন নূর মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন।
এ সময় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদসহ বহু নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ার বার্তা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাতে করে আমাদের পরিবেশও সুন্দর থাকবে, আমাদের মনটাও সুন্দর থাকবে। পরিবেশ যখন সুন্দর থাকে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। তখন মানুষ ভালো হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়। আমরা সেই বার্তাটাই মূলত দিতে চাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আন্তরিক হই ও নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আজকের এই বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে আমার প্রিয় এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের বলব, আজ এটা লোক দেখানো নয়, আজ কেবল শুরু। প্রতিদিন ফজরের পরে আমাদের প্রত্যেক ইউনিট সংগঠনকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করতে হবে। এক ঘণ্টা করতে পারলে আরও ভালো। এরপর তারা পরিবারসহ সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজে ছড়িয়ে পড়বে।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মিরপুর এলাকা একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। এ কাজ করতে আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে আমার দাবি থাকবে এই এলাকাকে যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা না হয়।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এই জুলাইয়ের কারণেই তো এই নির্বাচন এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আর আমি হয়েছি বিরোধীদলীয় নেতা। জুলাই না এলে কি আমরা এটা হতে পারতাম? তাই আমাদের অবশ্যই জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে ও সম্মান করতে হবে। এবং জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে যে সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। যদি সরকারি দল উদ্যোগ নেয়, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে কথা বলব কিন্তু ছেড়ে দেব না।
