অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

মনিরামপুরে আলোচিত রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডে স্যুটারসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

মনিরামপুরের আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের মূল স্যুটার মাহামুদ হাসান হৃদয় ও তার সহযোগী শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ৩টায় যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাসার এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের একটি বিউটি পার্লারের সামনে অবস্থান করছিলেন রানা প্রতাপ বৈরাগী। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে তাকে গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলা কাটা হয়।

রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনার পর মামলা রুজু হলে যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে প্রথমে সাদ্দাম হোসেন নামে এক আসামিকে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের দাবি, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এর জের ধরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠান। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয় এবং পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত