মোহাম্মদপুরের আমির হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত আদালতের বিচারক মো. খোরশেদ আলম এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কবির হোসেন, কবির হোসেনের স্ত্রী স্বপ্না, তার ভাই মে. হুমায়ুন, মো. ফালান ও মো. মিলন ওরফে নূরু।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ভুক্তভোগী আমির হোসেনকে হত্যা করা হয় মাদক সেবন কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগী ও আসামিরা সবাই মাদকসেবি। আসামি কবিরের স্ত্রীকে ভুক্তভোগী মারধর এবং গালাগালি করে যা আসামি কবির সহ্য করতে পারেননি। পৃথিবীতে যে যতই খারাপ হোক কেন, সে তার স্ত্রীকে পবিত্র দেখতে চায়। তার স্ত্রীকে কেউ কিছু বলুক তা সহ্য করতে পারে না। এজন্যই হয়তো কবির তাকে আঘাত করে। কিন্তু তার আঘাত ছিল খুবই গুরুতর। মারধর এবং জবানবন্দিতে আসামি কবির তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কবিরের বউ স্বপ্নাও সেখানে ছিলেন। তবে তিনি হত্যায় প্ররোচিত করেছে বলে তদন্তে জানা গেছে। সার্বিক বিবেচনায় পাঁচ আসামি মিলে ভুক্তভোগী আমির হোসেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে বলে আদালতের কাছে স্পষ্ট হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নিহত আমির হোসেন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে চা-সিগারেটের দোকান চালাতো। হত্যার ৭ থেকে ৮ মাস আগে স্বপ্না বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি নারীকে মারধর করেন। ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি রাত ১০ টায় দোকান বন্ধ করার পর স্বপ্নার স্বামী কবিরসহ ৪ জন কৌশলে সিএনজি করে মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্না। আসামিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী আমির হোসেনের ওপর আক্রমণ করে।

আসামি কবির চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের ভাই মো. জাকির হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় কবিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচারকালে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত