নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদী এলাকায় গত শনিবার রাতে কৃষিজমি থেকে মাটি লুটে বাধা দেওয়ায় হামলার ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সকালে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কাজহরদী বানিয়াপাড়া এলাকাটি ইটভাটার নিকটবর্তী হওয়ায় স্থানীয় শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা ওই গ্রামের সাধারণ কৃষকদের জমির মাটি প্রতিদিন রাতে জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে কেটে লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল।
শনিবার রাতে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় জমির মালিকদের ওপর হামলা করে মাটিকাটা চক্রের সদস্যরা। এতে আকতার হোসেন, সাদ্দাম মিয়া, মোস্তফা কামাল, আনোয়ার হোসেন, মামুন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও কবির হোসেনসহ ২০ জন আহত হন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলায় আহত কবির জানান, কাজহরদী এলাকার প্রভাবশালী শাহজাহানের নেতৃত্বে আবু হানিফ, মহসিন মিয়া ও শানু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের জমির মাটি জোরপূর্বক রাতে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে এলাকার সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছে। আবার বাধ্য হয়ে অনেকের জমির মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে। শনিবার তারাবি নামাজের পর এলাকাবাসী মাটি কাটতে বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র, দা, হকিস্টিক, রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আব্দুল আলী নামের এক কৃষক বলেন, মাটি লুটচক্রের সদস্যদের কাছে সাধারণ কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাতে পাহারা দিয়েও মাটি লুট ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন রাতে মাটি লুট করে নিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমির মাটি তাদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহজাহান জানান, তিনি আবু হানিফের অধীনে চাকরি করেন। আবু হানিফ জমির মাটি কিনে ভেকু দিয়ে কেটে ইটভাটায় বিক্রি করেন। হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। রাতে মাটি কাটার সময় আকতারের নেতৃত্বে তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। তবে আকতার তাদের মাটি কাটার জমিতে চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা না দেওয়ায় কৃষকদের নিয়ে বাধা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরি করে কৃষকের জমির মাটি লুট করার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।’
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ বলেন, কৃষিজমির মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
