ইউক্রেন যুদ্ধ

রাশিয়ার হামলায় কম্পিত কিয়েভ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে হিসেবে রূপ নিয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। আগামীকাল মঙ্গলবার এই যুদ্ধ পাঁচ বছরে পড়ছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে দুই পক্ষই ব্যাপক মাত্রায় সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও, যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তির বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার চতুর্থ বর্ষপূর্তির আগে রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালিয়েছে মস্কো। গতকাল রবিবার একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কিয়েভ। রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটির সেনারা মস্কোর পূর্বে ভটকিনস্কে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাটিতে হামলা চালিয়েছে। এই কারখানায় ছোট-পরিসরের ইসকান্দার এবং আন্তঃমহাদেশীয় টোপোল-এম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ভটকিনস্ক ইউক্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিমি দূরে অবস্থিত।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভোর চারটা নাগাদ বিমান হামলার সতর্কতা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে বিমানবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সারা দেশে সতর্কতা জারি করে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানীতে হামলা চালাচ্ছে। তিনি স্থানীয় লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানান। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, শহরের উপকণ্ঠ থেকে একজন নারী ও একটি শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। এর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নিয়মিত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মস্কো ইউক্রেনের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর শীতকালীন হামলা জোরদার করেছে। রবিবার হামলার সময় কিয়েভ শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল।

এদিকে, রাশিয়ার প্রত্যন্ত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের সেনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশীয়ভাবে তৈরি ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার ফলে কারখানার এলাকায় আগুন ধরে যায়। উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার ব্রেচালভ আগেই জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি স্থাপনায় রাতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আলেকজান্দার ব্রেচালভ বলেন, হামলার ফলে ক্ষতি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। উদমুর্তিয়ার রাজধানী ইজেভস্কের বিমানবন্দর এবং আশপাশের অঞ্চলের শহরের বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে সামারা অঞ্চলের রাশিয়ার কর্মকর্তারা এমন কোনো হামলার খবর প্রকাশ করেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত