দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না। বিশেষ করে বাহিনীর আইনানুগ কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই সঙ্গে পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে, যাতে মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশে লটারি করে এসপি এবং ওসিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে যার যেখানে যাওয়ার কথা নয়, সেখানে দেওয়া হয়েছে। এসব পদায়ন সার্ভিস রেকর্ড দেখে করা উচিত ছিল। তাছাড়া লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এখন দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নিয়ে এগুলো নিয়ে কাজ করব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে পুলিশ সুপাররা যেন কাউকে প্রটোকল না দেয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে নিরীহ ও সাধারণ অনেক মানুষকে মামলায় জড়িয়েছে। পুলিশকে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিডিআর হত্যাকা- নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার করা হবে। এটা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও আছে। সরকার যেকোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আবার যাচাই-বাছাই করব। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে, তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কি না, সেটা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অনেক অভিযোগ আছে। আমাদের অনেকেই অনলাইনে ইলেকট্রনিকভাবে পাসপোর্ট আবেদনে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কিছু লোকজনের সহযোগিতা নেয়, যারা অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে আয়-রোজগার করে। তাদের মাধ্যমে এবং পাসপোর্ট অফিসের কিছু লোকজনের যোগসাজশে জনগণ অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়ে। সেটা নিরসনে রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের মতো তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হলে সেবা সহজীকরণ হবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে। তাদের কাজের জন্য তারা যাতে সার্ভিস চার্জ পায়, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি নিরসনে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে আমরা চালুর চিন্তাভাবনা করছি। যদি ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে এটা টিকে যায়, পরে এটি সারা দেশে চালু করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে।

২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের নতুন করে নিয়োগ প্রদান করা হবে কি না জানতে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিয়োগবঞ্চিত এসআইদের ফাইলটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ আকারে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে গিয়েছিল। তখন কী কারণে ফাইলটি অনুমোদন হয়নি, জানি না। তদন্ত করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ প্রদান করা হবে।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনসহ আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত