বিএনপির দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ, ঝাড়ু মিছিল ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল মঙ্গলবার বাঘারপাড়া পৌর সদরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে, প্রথম ধাপে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের বাড়ির সামনে থেকে গতকাল বেলা ১২টার দিকে তিনটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ‘চকলেট বোমা’ বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত সোমবার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়ায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন টিএস আইয়ুবের সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে টিএস আইয়ুবের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ বলেন, যশোর-৪ আসনে বিএনপি থেকে আমিসহ তিনজন মনোনয়ন চেয়েছিলেন। প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন টিএস আইয়ুব। টিএস আইয়ুব ঢাকা ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়। ওই মামলায় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঢাকা ব্যাংকের পক্ষে লড়েছেন। আমি তার সহকারী আইনজীবী ছিলাম। এজন্য তিনি দোষারোপ করে চলেছেন। আইয়ুবের নির্দেশে সোমবার ঝাড়ু মিছিল হয়েছে।

ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী। নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় গ্রুপিং আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও ১৪৪ ধারা : ওই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে সোমবারের ঝাড়– মিছিলের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিএনপির এক গ্রুপ উপজেলা মোড়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। একই স্থানে একই সময়ে দুই আইনজীবীর বহিষ্কারের দাবিতে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেন টিএস আইয়ুবের অনুসারীরা। সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভুপালী সরকার স্বাক্ষরিত আদেশে বাঘারপাড়া পৌরসভার স্বর্ণপট্টি মোড়, চৌরাস্তা, উপজেলা মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত ও মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

ভুপালী সরকার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই স্থানে দুটি পক্ষের কর্মসূচির ঘোষণা পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দেয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত