গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক

নগদে ব্যারিস্টার আরমানের বিনিয়োগ প্রস্তাব

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নগদ। প্রচার প্রচারণায় ব্যাপক আলোচনায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরুর কয়েক বছরের মাথায় কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়েন নানান অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে নগদের কার্যক্রম। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এসবের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি একটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নগদের বিষয়ে চূড়ান্ত নীতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সরকার যদি নগদকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানা গেছে, নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আলোচনা চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারিস্টার আরমান। এর আগে বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। ব্যারিস্টার আরমান জানান, সংসদ সদস্য পরিচয়ের বাইরে একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবেই তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

আরমান বলেন, আমি একজন পেশাদার আইনজীবী। এর আগেও ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাজ করছি এবং আইনি সহায়তা দেব।

সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এমএফএস খাতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছিলেন। নগদে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, তা জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট করার আগ্রহের কথাও গভর্নরকে জানানো হয়েছে।

সংসদ সদস্য হয়েও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি করি জনগণের সেবার জন্য, এখানে কোনো আয় নেই। পেশাগত জীবনে আইনচর্চা করি পরিবার পরিচালনার জন্য। ঐতিহাসিকভাবেই সংসদ সদস্যরা পেশাগত কাজ করে আসছেন। এতে কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই।

‎তিনি বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বর্তমান সরকার আন্তরিক।

‎জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নগদকে নিয়ম ভেঙে নানা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

‎‎ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করলে নগদের দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট’ হিসাবে ইস্যুকৃত ই-মানির বিপরীতে ১০১ কোটি টাকার বেশি রিয়েল মানির ঘাটতি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ঘাটতিসহ গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। ‎তিনি আরও বলেন, নগদের জন্য বিকাশের মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দরকার, যারা ধাপে ধাপে শেয়ার কিনে বিনিয়োগ করবে। এতে নগদকে একটি যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।

‎এর আগে, গত বছর ২৫ আগস্ট গভর্নর ঘোষণা দিয়েছিলেন, ডাক অধিদপ্তরের হাত থেকে নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এবং নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমানে নতুন সরকারের নীতি-নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে নগদ। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে নগদকে ব্যক্তি খাতে ছাড়ার পথ ও বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত