খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) ৫ দিন ধরে নিখোঁজ। তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিখোঁজ কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের বাবা কাজী আব্দুস সোবহান। এ সময় নিখোঁজ সুজনের মা, স্ত্রী ও ৫ বছরের সন্তান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কাজী আব্দুস সোবহান বলেন, খুলনা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তিনি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আমার ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন নিজ বাসভবনে ইফতার করে। এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে সে পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যায়। নামাজ আদায় করে সে প্রায় আধাঘন্টা পর মসজিদ থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সে মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। আমরা আশপাশের অনেক সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করি। কিন্তু ওই এলাকায় অনেক সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা নষ্ট থাকায় আমরা তার পরবর্তী অবস্থান বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি। মসজিদের সামনে থেকে সুজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক বলে মনে করেন তিনি।
আব্দুস সোবহান বলেন, ওই রাতে আত্মীয়-স্বজন, সুজনের বন্ধু বান্ধবসহ পরিচিত সব স্থানে খোঁজ নিয়ে কোন সন্ধান না পেয়ে পরেদিন ২২ ফেব্রুয়ারি আমি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি নং-১৪৬০) করি। এছাড়া পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্টদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুজনকে উদ্ধারে সহযোগিতা চাই। কিন্তু তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে আমি এবং আমার পরিবার মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। ছেলেকে না দেখতে পেয়ে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন আমার বউমা (সুজনের স্ত্রী) তার একমাত্র ৫ বছরের সন্তান নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাবাকে না দেখতে পেয়ে আমার নাতি কাঁদছে।
তিনি আরো বলেন, আমার একমাত্র ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। আমার সব ব্যবসা-বণিজ্য সে দেখাশোনা করতো। আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। কারো সাথে কোন শত্রুতাও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোথাও সে যেত না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমার ছেলে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। আমি আমার সন্তান নিয়ে সব সময়ই গর্ব করি। এমন ছেলে কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।
তিনি বলেন, খুলনার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে আমি এই শহরের মানুষদের সাথে চলাফেরা করি। অথচ আজ আমি আমার একমাত্র ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। আমি এবং আমার পরিবার আপনাদের মাধ্যমে আমার একমাত্র ছেলেকে উদ্ধারে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। খুলনার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি, আপনারা আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
