হুমকির মধ্যেই আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ততা দিনকে দিন বাড়ছেই। চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে লক্ষ্যে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাকে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ করেছে ওয়াশিংটন। বসে নেই ইরানও, আক্রান্ত হলে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে বসেছে দুই পক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তারা। এই আলোচনাকে সংঘাত এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আগেরবারের মতো এবারের আলোচনাতেও মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। তিনি বলেন, আলোচকরা নতুন ও সৃজনশীল সব ধারণা এবং সমাধান নিয়ে নজিরবিহীন খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট। ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথাও বিবেচনা করছেন তিনি। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। গত মঙ্গলবার নিজের স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু করেছে; ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন চলে আসা বিরোধ সমাধানে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় তাহলে সেটি ইরানের জন্য ‘অত্যন্ত খারাপ দিন’ হবে। আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস ও নেভিসে এক সফরে থাকাকালে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। রুবিও বলেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হওয়ার পর পুনরায় শুরুর চেষ্টা না করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আপনারা তাদের দেখতে পাবেন সবসময় এটির উপাদান পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। তারা এই মুহূর্তে সমৃদ্ধকরণ করছে না, কিন্তু তারা এমন একটি জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছে শেষ পর্যন্ত যেখানে তারা যেতে চায়। ট্রাম্প গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর জুলাইতে তিনি দাবি করেন, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছেন। কিন্তু অতি সম্প্রতি তার সহযোগীরা দাবি করেছেন, ইরান একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি আছে। রুবিও বলেছেন, ইরানের অনেক বেশিসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের স্বার্থের জন্য হুমকি। আর তারা এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারবে। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে তাদের এসব প্রচলিত অস্ত্র আছে যেগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নাগরিকদের আক্রমণ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। আমরা যখন কথা বলছি, এখনই তাদের কাছে ইতিমধ্যে এমন অস্ত্র আছে যা ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে পৌঁছতে পারবে। রুবিও জানান, জেনেভার বৈঠকে তেহরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা একটি বড় সমস্যা। তিনি গতকালের আলোচনাকে ‘পরবর্তী আলোচনার সুযোগ’ ছাড়া অন্য কিছু বলে চিহ্নিত করতে চান না। তবে তিনি অগ্রগতি আশা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদ আছে ইরানের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত