চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত হাফিজুর রহমান (৫০) হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই। সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাকে দেখতে গতকাল রবিবার হাসপাতালে যান জামায়াত আমির এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

এ সময় তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে মফিজুর রহমানের শারীরিক খোঁজ-খবর নিয়ে উন্নত চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকনির্দেশনা চিকিৎকদের দেন। পরে আমিরে জামায়াত মুফিজুর রহমানের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শনিবার ইফতারের পর স্থানীয় হাসাদহ বাজারে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ হয়। এ সময় মারাত্মক জখম জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

এদিকে, জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর জীবননগর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমানের হত্যাকা-ে জড়িত বিএনপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে জীবননগরে ‘আগুন জ্বলবে’। বিক্ষোভ চলাকালে জামায়াত কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্ব সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিসদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা জামাতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।

সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা রবিবার বেলা ৩টায় জীবননগরের সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একই গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের এমপি জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ

গতকাল রবিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং আরও কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এই হত্যার বিচারের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত