বসের আস্থাভাজন হওয়ার ১০ উপায়

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

সৈয়দ আখতারুজ্জামান

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কন্সালটেন্সি, ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

অফিসে যতই পরিশ্রম করুন না কেন বসের আস্থা অর্জন করতে না পারলে যেন সবটাই বৃথা। বসের আস্থাভাজন হওয়ার পরামর্শ রইল বসের দেওয়া কাজগুলো আপনাকে সঠিকভাবে করতে পারতে হবে। কিন্তু অনেক সময়ই সেটা তালগোল পাকিয়ে যায় আর তাতে বস আপনার ওপর থেকে আস্থা হারাতে পারেন। তাই আপনার বস আপনাকে যে কাজটি করতে দিচ্ছেন সেটি গ্রহণ করার আগে কয়েকটি বিষয় ভাবুন: ক. আপনাকে কী করতে হবে তা কি আপনি আসলেই ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন? খ. কাজটি কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে তা বুঝতে পেরেছেন কি না, গ. কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার মতো দক্ষতা ও জ্ঞান আপনার আছে কিনা, না থাকলে বসের পরামর্শ নিন, ঘ. কাজটি কতক্ষণের মধ্যে শেষ করতে হবে জেনে নিন, ঙ. জেনে নিন, কাজটি করতে গিয়ে কোন কোন দিকগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এতে আপনার কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে এবং আপনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠবেন বসের আস্থাভাজন।

অফিসে অনেক কর্মকর্তা আছেন যাকে অক্ষরে অক্ষরে বলে দিলেও কাজটি সঠিকভাবে করতে পারেন না। তাদের জন্য বসের আস্থা অর্জন করা বেশ কঠিন। আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে। বস যদি কেবল নির্দেশনা দেন তাতেই যেন আপনি কাজটি সঠিকভাবে করতে পারেন। তাহলেই বস আপনার ওপর আস্থা রাখতে পারবেন।

একটি কাজ দিয়ে বস যেন নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন সেটা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। তাই যা যা বোঝার, জিজ্ঞেস করার, একবারে করে নেবেন। একটি কাজ নিয়ে বারবার প্রশ্ন করতে থাকলে বসের ভালো না-ই লাগতে পারে। আস্থা অর্জন করতে চাইলে বসের বিরক্তির উদ্রেক করা যাবে না।

বসের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করুন। যাতে আপনার সঙ্গে আলোচনা সহজ হয়। যাতে তার সমস্যা বা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে আপনিও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।

সমস্যা হলেও যে কাজটি আপনাকে করতে হবে সেটি হাসিমুখে করুন। কাজটি করতে গিয়ে কপাল কুঁচকে, চোখে-মুখে বিরক্তির ভাব ফুটিয়ে তুলবেন না। কাজের গোপনীয়তা বজায় রাখুন। আপনার প্রতি যাতে বসের নির্ভরশীলতা বাড়ে সেদিকে বিশেষ নজর দিন।

সঠিক সময়ে অফিসে আসুন। ঘন ঘন অফিসে অনুপস্থিত থাকবেন না। ঠুনকো কারণে বারবার ছুটি চাইবেন না। এই সব সাধারণ ব্যাপারেও অনেক দক্ষ কর্মী তার বসের আস্থাভাজন হতে পারেন না।

প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার গভীর আগ্রহের ব্যপারটি কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করুন। পেশাদারিত্ব বাড়াতে স্বউদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিন। নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলুন। যে কাজগুলো করতে বারবার ভুল হয়, সেগুলো করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকুন। সংকটাপন্ন অবস্থায় নিজেকে উজাড় করে প্রমাণ করুন বিপদে আপনার ওপর ভরসা করা যায়।

ভুল হলে স্বীকার করুন। নিজের ভুল অন্যের ঘাড়ে চাপানোয় কোনো কৃতিত্ব নেই। যারা নিজের দোষ স্বীকার করতে পারেন তারা শ্রদ্ধার পাত্র। একই ভুল যাতে বারবার না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

আপনার বসের আচরণ আপনার ভালো না লাগলেও বিতর্কিত অবস্থায় যতটা সম্ভব মাথা ঠান্ডা রাখুন। কথায় কথায় জবাব না দিয়ে আগে সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হোন। পরিস্থিতি শান্ত হলে, আমরা অধিকাংশ সময়েই নিজের ভুল নিজে বুঝতে পারি। বসও বুঝতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত