কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আজ বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। দুই দলই দীর্ঘদিন ধরে আইসিসির সাদা বলের শিরোপার অপেক্ষায়। ২০০০ সালের পর থেকে কোনো দলই সাদা বলের ক্রিকেটে বড় ট্রফি জিততে পারেনি। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে তারা বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকেলটন, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস দলের ভিত্তি শক্তিশালী করেছেন। পেস বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো ইয়ানসেন ও করবিন বশ ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছেন। স্পিন আক্রমণে আছেন কেশব মহারাজ।
টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আরেকটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সাদা বলের অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ জেতা সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমি গর্বিত ছিলাম তার অংশ হতে পেরে। আমাদের সাদা বলের অনেক ক্রিকেটার সেখানে ছিল না, কিন্তু তারা দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট সঠিক পথে এগোচ্ছে। এখন বিশ্বকাপে এমন একটি দলের অংশ হওয়া দারুণ অনুভূতি।’
বারের আসরে নিউজিল্যান্ডের পথ ছিল কঠিন। গ্রুপে আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ ভেস্তে যায়। ইংল্যান্ডের কাছেও হারতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুপার এইটে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দেখাটা খুব কঠিন ছিল। ভীষণ স্নায়ুচাপের। এতটাই টেনশন ছিল যে, কয়েকজনকে নিয়ে আমার রুমে বসে ছিলাম। পরে বেরিয়ে যেতে হয়েছে।’
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্ট প্রায় নিয়মিতই আক্রমণাত্মক সূচনা এনে দিচ্ছেন। রাচিন রবীন্দ্র বড় মঞ্চে আগেও সফল হয়েছেন। মাঝের সারিতে গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল ভরসা। স্পিনার হিসেবে সমর্থন দিচ্ছেন মিচেল স্যান্টনার। পেসা আক্রমণে আছেন লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি ও জিমি নিশাম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে কখনও হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়। তবে নকআউটে এই ফরম্যাটে আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি দুই দল। ইডেনের উইকেট কিছুটা স্পিন সহায়ক, তবে সন্ধ্যায় শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়া উষ্ণ, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দুই দলই বহুবার সেমিফাইনালে থেমেছে। এবার কি শেষ হবে দীর্ঘদিনের শিরোপাহীনতার অভিশাপ?
শুধু ক্রিকেটার কেন, পিসিবি কর্তাদেরও জরিমানা হওয়া উচিৎ: আমির
ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল: ওয়াংখেড়েতে জ্বলে উঠবেন অভিষেক?