জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদাবাজির অপবাদের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী পরিবারের বিরুদ্ধে  বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫মার্চ) দুপুরে দাউদকান্দি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। 

সংবাদ সম্মেলন ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, উপজেলার বিটেস্বর ইউনিয়নের চন্দ্রশেখরদি গ্রামে ২০১৮ সালে ৭৭শতক পুকুর বাড়িসহ জমি কিনি। আমার কেনা জায়গা নিয়ে স্থানীয়  জুলফিকার আলীর সাথে দেওয়ানি মামলা চলছে। মামলা চলমান অবস্থায় এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জুলফিকার আলী স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমরা গিয়ে বাধা দিলে আমাদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দেয়।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটেস্বর ইউনিয়নের চন্দ্রশেখরদি গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে জুলফিকার আলীর  তার চাচাদের সাথে সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলছিল।  এরমধ্যে তাঁর এক চাচি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমথুরা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেনের নিকট ২০১৮ সালে পুকুর বাড়ীসহ ৭৭ শতাংশ জায়গার পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে হস্তান্তর করেছেন। ওই জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যেই আদালতে মামলা চলছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ।
সম্প্রতি মামলা চলা অবস্থায় জুলফিকার আলী ভবন নির্মাণ করতে গেলে শাহাদাত হোসেন বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাদাতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন জুলফিকার আলী ও তার স্ত্রী তাহমিনা জাহাঙ্গীর। পরে তাদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে চাঁদাবাজি হিসেবে রঙ ছড়িয়ে প্রচার করা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তারা এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন।

জুলফিকার আলী বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। বুধবার(৪ফেব্রুয়ারি) শাহাদাত নামের এক লোক স্থানীয় ভাড়া করা লোক দিয়ে আমাদের হুমকি এবং নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান ও ভাংচুর করে। কি কারনে বাধা দেয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দাদার ২৩ একর সম্পত্তির ওয়ারিশ আমার বাবা চাচা ছয় জন। শাহাদাত আমার এক চাচির কাছ থেকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে ৭৭ শতক জায়গা নিয়েছে। এ জায়গা নিয়ে আমাদের ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টননামা ও খতিয়ান সংশোধনের মামলা চলছে আদালতে। সেও আমাদের নামে মামলা করেছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মান কাজ করা প্রসঙ্গে জুলফিকার বলেন, আমরা মামলা সম্পর্কে তেমন বুঝি না। আদালতে মামলার তারিখের আগে এডিএম কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা এনে আমাদেরকে হয়রানি করছে। বিটেস্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, চন্দ্রশেখরদি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অংশিদারদের দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা বলে শুনেছি। এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, জায়গা নিয়ে বিরোধের ঘটনা। চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত