যশোর উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সত্যেন সেন চত্বরে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ এবং নোয়াখালী জেলা সংসদের পক্ষ থেকে ফেরদৌসী আলম।
এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশন করেন।
পরে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নিবাস দে, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে সুকুমার বিশ্বাস এবং সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক এম এম আকাশ।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদ সেলিম বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় বারবারই উদীচী হামলার শিকার হয়েছে। কখনো সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির হামলা, আবার কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ সংগঠনটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও উদীচীকে দমিয়ে রাখা যায়নি, কারণ উদীচী সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিশ্বাস করে এবং সাধারণ মানুষই সংগঠনটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, যশোর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গত ২৭ বছর ধরে সোচ্চার রয়েছে উদীচী। এই সময়ে একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, যশোরে উদীচীর উপর হামলার পর ছায়ানট ও সিপিবির ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেসব ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। এসব হামলার বিচার না হওয়ার কারণেই দেশে উগ্র, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের হত্যার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা গেলে দেশকে আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিখা সেনগুপ্তা, মির্জা আতিকুজ্জামান এবং সৈয়দা রত্না। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী বাড্ডা শাখার শিল্পী অরুণিমা আহমেদ প্রথমা।
এছাড়া উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা সম্মেলক সঙ্গীত এবং কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের বাচিক শিল্পীরা দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ।
কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিল