মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক প্রবাসী শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ রফিকুল ইসলাম জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের মদনগোপাল এলাকার মৃত লাল মাহমুদ মণ্ডলের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে আল কাসিম শহরে মিনিস্টার বলোদিয়া কোম্পানির অধীনে গ্যারেজে কাজ করতেন। ঈদ উপলক্ষে কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় সৌদি আরবের আল কাসিম বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানটি দুপুর ২টার দিকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে দুবাই থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ওইদিন বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকে তার ইমো, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারসহ সব যোগাযোগমাধ্যম অফলাইন দেখাচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটটি গত ৪ মার্চ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও রফিকুল ইসলাম বাড়ি ফেরেননি এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
রফিকুলের স্ত্রী আর্জিনা বেগম বলেন, ‘সাহরির সময় তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর আর কোনো যোগাযোগ নেই। আট দিন ধরে তিনি নিখোঁজ। কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কিছুই জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।’
বড় মেয়ে রাফিয়া ইসলাম বলে, ‘বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ঈদে বাবার সঙ্গে থাকার আশা ছিল। আপনাদের কাছে অনুরোধ, বাবার সন্ধান দিন।’
রফিকুলের প্রবাসী ভাগ্নে জামাই ফরহাদ হাসান বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে খালুশ্বশুর পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। আট দিন ধরে যোগাযোগ নেই। আমি নিজেও একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তার সন্ধান বের করা হোক।’
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব।’
